শিরোনাম

পথের মাঝেই  রয়ে যায় জীবনের মূল্যবান মুহূর্তগুলো

ডেস্ক রিপোর্ট: ঢাকার পূর্ব আকাশে ইট কংক্রিটের উঁচু উঁচু ভবন ভেদ করে রক্তিম সূর্য উদয়নের মধ্য দিয়ে জানান দিচ্ছে একটি নতুন দিনের সূচনা।এরই মধ্য অনেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগদান করার জন্য। ২৭০ বর্গকিলোমিটারের এই  শহরটিতে  প্রায় সোয়া দুই কোটি মানুষের বসবাস । ২০৩০ সালে এ সংখ্যা দাঁড়াবে তিন কোটির অনেক বেশি। অর্থাৎ সামনে যে ভয়াবহতা অপেক্ষা করছে সেটা সহজেই অনুমানযোগ্য। বাংলাদেশের একমাত্র শহর ঢাকা যেখানে সব প্রয়োজন মেটানোর জন্য মানুষ এখানে আসে। চাকরি, বদলি, তদবির, প্রমোশন, পেনশন, রাজনীতি, মিটিং, মিছিল, সমাবেশ, আন্দোলন, ব্যবসা, বিনোদন- সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু ঢাকা শহর। গত তিন দশকে অভাবনীয় নগরায়ন, মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি, ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার, যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়ন, নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি, বেসরকারি খাত সৃষ্টি ইত্যাদির ফলে ঢাকার ওপর চাপ বেড়েছে, বেড়েছে মানুষের ঢল। এমনকি গ্রাম-গঞ্জে অভাব দেখা দিলেই মানুষ ছুটছে শহরে । সারাদেশের মোট কর্মসংস্থানের ৪৪ শতাংশ ব্যবস্থা করে শহরটি। ঢাকা বিশ্বের অন্যতম জনবহুল মেগাসিটি। এর জনঘনত্ব পৃথিবীর যে কোন শহর থেকেই বেশি। পৃথিবীর অবাসযোগ্য শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান একেবারে নিচে।

ঢাকা শহরের যানবাহনের গতি বর্তমানে গড়ে পাঁচ কিলোমিটারের কম যেখানে একজন মানুষের পায়ে হাঁটার গতিবেগ এর থেকে ঢের বেশি। অবশ্য এ তথ্য এটা নিশ্চিত করে না যে, পাঁচ কিলোমিটার পথ একঘণ্টায় পৌঁছানো যাবেই, বরং ক্ষেত্রবিশেষ এক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পাঁচ ঘণ্টা লেগে যাওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে অনেকে ঘরে ফেরেন। এতে প্রতিদিন প্রায় লক্ষ লক্ষ  কর্মঘণ্টা মানুষের জীবন থেকে নষ্ট হচ্ছে । পথের মাঝে রয়ে যায় জীবনের মূল্যবান মুহূর্তগুলো। তিন দশক আগে এখানকার যানবাহনের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার। সেটা ধারাবাহিকভাবে কমতে কমতে একটা দুঃসহ ক্লান্তিকর অবস্থায় পৌঁছেছে। কোন নগরবিদ এ শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা থেকে মুক্তির কোন নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না।

রাস্তায় চলাচলকারী মানুষের বেশিরভাগই জানে না রাস্তা পারাপারের নিয়ম অথবা জানার পরেও তা মানে না। এই শহরের মানুষের সবচেয়ে বড় প্রবণতা হলো কত স্বল্প বিনিয়োগে বেশি মুনাফা অর্জন করা যায়; কত শর্টকাটে বেশি লাভ আসে। সেটা রাস্তা পারাপার থেকে শুরু করে প্রমোশন, ভালো রেজাল্ট, সফল ব্যবসায়ী, নামি শিল্পী হওয়া ইত্যাদিসহ সব জায়গায় এক ধরনের সরল প্রবৃত্তি দেখতে পাওয়া যায়। এক ভয়াবহ প্রতিযোগিতার মধ্যে অসুস্থ চিন্তা নিয়ে এ শহরের মানুষের ঘুম ভাঙে।

বিগত বছর দশেক ধরে চেষ্টা চলছে এটাকে বাসযোগ্য করে তোলার। নানাবিধ পরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করছে যেমন ফ্লাইওভার, আন্ডারপাস, মেট্রোরেল, ইউলুপ, বাইপাস ইত্যাদি। কিন্তু এটা উত্তরণের খুব বেশি আশা অনেকেই করছেন না। তবে অনেকেই ভাবছেন, সবচেয়ে কার্যকরী কিছু হতে যাচ্ছে মেট্রোরেল প্রজেক্টের ভেতর দিয়ে। কারণ এটি হলে ঘণ্টায় প্রায় ৬০ হাজার মানুষ কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে পারবে। সবচেয়ে বড় কথা হলো- যে বিপুল জনস্রোত শহরটিকে ক্লান্ত করে তুলেছে তা প্রথমেই থামাতে হবে। বাংলাদেশের অন্যান্য শহরগুলোতে প্রশাসনের কর্মকাণ্ড বিকেন্দ্রীকরণ না করতে পারলে এ চাপ দিন দিন বাড়তে থাকবে।

(Visited 116 times, 1 visits today)

About The Author

মোহাসিন সাইদ ঢাকা প্রতিনিধি

এই বিভাগের আরও সংবাদ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *


অ্যাবাউটবিজ্ঞাপনযোগাযোগ শর্ত ও নিয়মাবলী