ভোলায় সূর্যমুখী ফুলে কৃষকের হাসি

ভোলা প্রতিনিধি: ভোলায় সূর্যমুখীর বাম্পার ফলনে হাসি ফুটেছে শতাধিক কৃষকের মাঝে। অনেকেই প্রথম বারের মতো এর আবাদ করে সফলতা পেয়েছেন। তেলজাতীয় অন্য ফসলের চেয়ে সূর্যমুখীর চাষ সহজলভ্য ও উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় দিন দিন চাষিদের আগ্রহ বাড়ছে।

ফলন ভালো হওয়ায় সূর্যমুখীর উৎপাদিত তেল জেলার চাহিদা মিটিয়ে এখন অন্যান্য জেলায় রপ্তানি হচ্ছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সূর্যমুখী আবাদ ও তোলার মৌসুম। চলতি মৌসুমে ভোলায় ১৬ হেক্টর জমিতে সুর্যমুখী চাষ করা হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ প্রতি একর জমিতে সূর্যমুখী ফলন এসেছে ৯৬০ কেজি। এ থেকে তেল পাওয়া যাবে প্রায় ৪৮০ কেজি।

দেশি প্রজাতির সূর্যমুখী থেকে হেক্টরপ্রতি ৪০০ কেজি ও হাইব্রিড প্রজাতিতে হেক্টরপ্রতি ৫০০ কেজি কোলেস্টরেলমুক্ত তেল উৎপাদন সম্ভব, যা অন্য তেলজাতীয় ফসলে চেয়ে বহুগুন পুষ্টিমান। প্রতিকেজি সূর্যমুখী তেল বাজারে ২৮০টাকা দামে বিক্রি করা যায়।

সুর্যমুখীর তেল ছাড়াও খৈল দিয়ে মাছের খাবার এবং গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। সরেজমিনে ভোলা সদর, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, লালমোহন ও চরফ্যাশন উপজেলার ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ ফসলের ক্ষেতে সূর্যমুখীর সমারোহ।

হিমেল হাওয়ায় মাঠে মাঠে সবুজের বিছানায় দোল খাচ্ছে হলুদ সূর্যমুখী প্রতিটি ।ফুলের সাথে জড়িয়ে আছে কৃষকের হাসি। কেননা আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ মৌসুমে সূর্যমুখীর বাম্পার ফলন হয়েছে। তাই বাজারে দাম বেশি থাকায় লাভবান হওয়ার আশা করছেন তারা।

১৬ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে। এ সূর্যমুখী চাষকে কৃষি বিভাগ নতুন সম্ভাবনা হিসেবে মনে করেছে। সরিষা কিংবা সয়াবিন তেল বাদ দিয়ে সূর্যমুখী থেকে উৎপাদিত ভোজ্য তেল স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন জেলাতেও সরবরাহ করা সম্ভব বলে মনে করছে তারা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *