তানজির ইসলাম রানা, ডেস্ক রিপোর্ট: যেকোনো সম্পর্কেই বিচ্ছেদ মেনে নেওয়া কঠিন। বিচ্ছেদের পর প্রাক্তনের কথা সবারই কমবেশি মনে পড়ে। ভালোবাসা ভুলে যাওয়া ততটা সহজ নয়। অনেকেই দিনের পর দিন ভেঙে যাওয়া প্রেম ভুলতে পারেন না। আবার প্রেমে ধোঁকা খেয়ে অনেকেই আত্মহত্যার পথও বেছে নেন। এমন অনেক ঘটনাই আছে!
এসব কারণেই ভাঙা প্রেমকে স্মরণীয় করে রাখার উদ্যোগে কাজ করছে এক জাদুঘর। ক্রোয়েশিয়ার রাজধানী জাগ্রেব শহরে এমনই একটি জাদুঘর আছে। যেখানে সংরক্ষণ করে রাখা হয় ভেঙে যাওয়া প্রেম। বিশ্বের প্রথম এমন এক জাদুঘর তৈরি করে সবাইকে চমকে দেন এক দম্পতি।
ফিল্ম প্রযোজক অলিঙ্কা ভিস্তিকা এবং ভাস্কর্যশিল্পী দ্রাজেন গ্রুবিসিকের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। ২০০৩ সালে ৪ বছরের প্রেমে ইতি টানেন এ দম্পতি। এরপরই যৌথ উদ্যোগে তারা গড়ে তোলেন এমন জাদুঘর। জাগ্রেবের প্রথম বেসরকারি জাদুঘর হিসেবে ২০১০ সালে জাদুঘরটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হয়।
এ জাদুঘরের বৈশিষ্ট্য হলো, প্রাক্তনের বিভিন্ন স্মৃতি সংরক্ষণ করে রাখা যায় এখানে। যেমন- আপনার প্রাক্তনের দেওয়া কোনো উপহার বা তার কোনো ব্যবহৃত জিনিস আপনি জাদুঘরে রেখে দিতে পারেন।
এ জাদুঘরে গেলে আপনি দেখতে পাবেন, প্রিয়জনের লেখা চিঠি, তার ব্যবহৃত পোশাকসহ জুতা, বিভিন্ন উপহার থরে থরে সাজানো। বিভিন্ন লোক তাদের ভালোবাসার মানুষের স্মৃতিটুকু এ জাদুঘরে রেখে গেছেন।
জাদুঘরে রাখা সব জিনিসের পাশেই ছোট্ট একটি নোট লেখা আছে। সেখানে হয়ত প্রাক্তনকে নিয়ে স্মরণীয় কোনো ঘটনা লিখে রেখে গেছেন সঙ্গী। দর্শনার্থীরা জাদুঘরে গিয়ে অন্যের ভেঙে যাওয়া প্রেমের স্মৃতি দেখেন এবং কাহিনি পড়েন।
দর্শনার্থীরা জাদুঘরে ঘুরতে এসেও নিজেদের পুরনো প্রেমকে মনে করেন। আবার কেউ সঙ্গে নিয়ে যান প্রাক্তনের স্মৃতি। রেখে আসেন এ জাদুঘরে।
সম্পর্ক ভেঙে গেলেও ভালোবাসা মন থেকে মুছে যায় না। এ কারণেই পুরোনো প্রেমকে বাঁচিয়ে রাখতে অলিঙ্কা ভিস্তিকা এবং দ্রাজেন গ্রুবিসিকের উদ্যোগে তৈরি জাদুঘরে এসে স্মৃতি রেখে যান।
২০১০ সালের পর থেকেই ‘মিউজিয়াম অব ব্রোকেন রিলেশনশিপ’ দর্শনীয় এক স্থান হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। বছরের বিভিন্ন সময় সেখানে পর্যটকদের ভিড় দেখা যায়।
এ জাদুঘরটি দেখতেও অনেক সুন্দর। ভিন্ন আকৃতিতে গড়ে তোলা হয়েছে এ জাদুঘরটি। ভেতরের পরিবেশও অনেক শান্ত। অনেকটা প্রশস্ত হওয়ায় দর্শনার্থীরাও ঘুরে ঘুরে জাদুঘরটি দেখতে পারেন।

আরও সংবাদ

Write a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *