Admin
প্রকাশ : 1 সপ্তাহ আগে
আপডেট : 1 সপ্তাহ আগে
এ তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র ও নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়।
বুধবার(২৬ মার্চ) স্থানীয় সময় ভোর ৫টা পর্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে আগুনের দাবানল থেকে শনিবার তিন জন অগ্নিনির্বাপক কর্মী এবং একজন সরকারি বনকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। দেশটিতে মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) জাতীয় অগ্নি সংস্থা চলতি বছরের প্রথম সর্বোচ্চ অগ্নি সঙ্কট সতর্কতা জারি করেছে সরকার।
দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হান ডাক-সু এই পরিস্থিতিকে ‘ভয়ংকর’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল। এখন পর্যন্ত ২৩,০০০ এরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দাবানলে বেশ কয়েকটা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা পুড়ে ছাই হয়েছে। বিশেষ করে ১,৩০০ বছরের পুরনো গউনসা বৌদ্ধ মন্দির সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। উইসিয়ং শহরের আগুনে ৬১৮ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত গউনসা মন্দির সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া জোসন রাজবংশের (১৩৯২-১৯১০) সময়ের একটি জাতীয় সম্পদ হিসেবে ঘোষিত স্থাপত্যও দাবানলে পুড়ে গেছে।
এমনকি বুধবার দুপুরের দিকে উইসিয়ং কাউন্টির পাহাড়ে একটি অগ্নিনির্বাপক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রায় ৫,০০০ সামরিক সদস্যসহ হাজার হাজার দমকলকর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থানরত মার্কিন সামরিক বাহিনীর হেলিকপ্টারও আগুন নেভাতে সহায়তা করছে।
দাবানলে মৃত্যু এমন ঘটনা খুব কমই ঘটেছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। তবে চলমান আগুন ইতোমধ্যে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী দাবানল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১৭,০০০ হেক্টর বনভূমি ধ্বংস হয়েছে, যা আয়তনের দিক থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম দাবানল।
হান আরও বলেন, আমরা মরিয়া হয়ে বৃষ্টির অপেক্ষা করছি, যা আগুন নেভাতে সহায়ক হতে পারে। কিন্তু কোরিয়া আবহাওয়া প্রশাসন জানিয়েছে, বুধবার কোনো বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই এবং বৃহস্পতিবার মাত্র ৫ থেকে ১০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে।
সংকট থেকে পুনরুদ্ধারের পর, দাবানল মোকাবেলায় যে ঘাটতি দেখা দিয়েছে, সেগুলো পুনরায় আবার মূল্যায়ন করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন হান। তিনি বলেছেন, একবার দাবানল শুরু হলে তা নিয়ন্ত্রণে বিপুল পরিমাণ সম্পদ ও মানবসম্পদ প্রয়োজন এবং এতে অনেক মূল্যবান প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়া শুষ্ক আবহাওয়ার মধ্যে রয়েছে, যেখানে বৃষ্টিপাতও গড়ের তুলনায় কম। চলতি বছরে ইতোমধ্যে ২৪৪টি দাবানল রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২.৪ গুণ বেশি।
শুক্রবার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সানচিয়ং কাউন্টিতে প্রথম দাবানল শুরু হয়, যা দ্রুত পার্শ্ববর্তী শহরগুলো উইসিয়ং, আন্দং, চেওংসং, ইয়ংইয়াং এবং ইয়ংডক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।